★★ চুল কেন পড়ে ★★★★


★★ চুল কেন পড়ে এবং সেক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয় ★★


চুল কমবেশি সবারই পড়ে। হয়তো কারো বেশি পড়ে আবার কারো কম। দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর বেশি হলেই তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার চুল পড়া নিয়ে বেশি চিন্তা করলেও চুল পড়ে বেশি। এই চুল পড়া সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই জানতে হবে কি কারণে চুল পড়ছে। কারণটা খুঁজে বের করে তারপর সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তখন আপনা আপনিই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।তাহলে চলুন জেনে নেই চুল কেন পড়ে এবং তার সাথে আমাদের কি করণীয়--
★★কেন চুল পড়ে-- চুল সাধারণত দুই কারণে পড়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ কারণ এবং বাহ্যিক কারণ।
★অভ্যন্তরীণ কারণ ---
১. অনেকসময় দেখা যায় Vitamin-D এর অভাবে চুল পড়ে। কারণ বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই indoor এ কাজ করে থাকে। তাই বাইরে যাওয়া কম হয়। যার ফলে আমরা সূর্যের আলো পাই না এবং আমাদের শরীরে Vitamin-D এর অভাব দেখা দেয় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাই আমদের উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে ২০মিনিটের জন্য হলেও রোদে গিয়ে বসা বা হাঁটাহাটি করা।
২. আবার অনেকের Vitamin-E এর অভাবে চুল পড়া শুরু হয়। কারণ আজকাল বেশির ভাগ মানুষই ফাস্ট ফুডের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। যার ফলে শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে। ফলে খাবারে Vitamin-E এর পরিমাণ কমে গেছে এবং চুল পড়া শুরু হয়েছে। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে লাল, সবুজ শাকসবজি রাখতে হবে। বায়োটিনের অভাব হলেও চুল পড়া শুরু হয়। তাই এক্ষেত্রে বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম, বাদাম ইত্যাদি খেতে হবে।
৩. ভুল ডায়েটের কারণেও অনেক সময় চুল পড়ে।ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে ফেললে চুল পড়ে। আবার অনেকে প্রাণীজ প্রোটিন কম গ্রহন করছে। যার কারণেও আজকাল অনেকেরই চুল পড়ছে। তাই সবার উচিত সুষম খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা।
৪. অনেক সময় দেখা যায় যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে তাদেরও চুল পড়তে থাকে। আবার অনেকের হিমোগ্লোবিন কম হওয়ার কারণেও চুল পড়ে। তাই এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।
৫. চুল পড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো হরমোনের সমস্যা। এরকম সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
★বাহ্যিক কারণ ---
১. অনেক সময় আমরা যেখানে বসবাস করি সেসব জায়গায় অনেক ধূলাবালি থাকে। যার ফলে আমরা যখন বাইরে বের হই তখন চুলে অনেক ধূলাবালি পড়ে। ফলে চুল পড়া শুরু হয়। সেক্ষেত্রে করণীয় হলো বাইরে গেলে মাথায় টুপি পড়ে যাওয়া বা চুল ঢেকে বাইরে বের হওয়া।
২. আবার অনেক সময় দেখা যায় পড়ালেখার কারণে বা অন্য কোনো কারণে আমাদের নিজের শহর ছেড়ে রাজধানী বা কোনো বিভাগীয় শহরে যেতে হয়। এই কারণেও অনেক সময় চুল পড়ে। কারণ দুই জায়গার পানির মধ্যে পার্থক্য থাকে। রাজধানী বা বিভাগীয় শহরের পানি প্রক্রিয়াজাতকৃত পানি। যার ফলে চুল পড়ে থাকে। তবে এটা কিছুদিন ব্যবহারের মাধ্যমেই ঠিক হয়ে যায়।
৩. অনেকে চুল পরিষ্কার করার জন্য গরম পানি ব্যবহার করে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আবার অনেক সময় আমরা চুলে হেয়ার ড্রাইয়ার বা স্ট্রেইটনার ব্যবহার করে থাকি।এইসবও চুল পড়ার অন্যতম কিছু কারণ। কারণ চুলের জন্য গরম পানি বা গরম বাতাস খুবই ক্ষতিকর। তাই চুলে কখনও গরম পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। সেক্ষেত্রে চুলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. আবার যখন শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয় তখন খেয়াল রাখতে হবে যে শ্যাম্পুটা আসলে চুলের সাথে যায় কি না। কারণ সব শ্যাম্পু সব রকমের চুলের জন্য নয়। এসবের জন্যও অনেক সময় চুল পড়ে। তাই এক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত। আবার অনেকে অনেকদিন যাবত চুলে তেল দেয় না। যার ফলেও চুল পড়া শুরু হয়। সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে তেল দিতে হবে এবং শ্যাম্পু করার আগে অবশ্যই চুলে তেল দিতে হবে।
৫. এছাড়াও আরও কিছু কারণ হলো - রাতজাগা, বেশি দুঃশ্চিন্তা করা ইত্যাদি। এসব কারণেও চুল পড়ে। আবার মহিলাদের ক্ষেত্রে যারা হিজাব পড়েন তারা যদি চুলের ঠিকমতো যত্ন না করে তাহলেও অনেকের চুল পড়ে। তাই হিজাব পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন এর মধ্যে দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে অর্থাৎ হিজাব বেশি টাইট না হয়।
বেশিরভাগ চুল পড়ার কারনই খাদ্যব্যবস্থাপনা ও লইফ-স্টাইল এর সাথে জড়িত।সুতরাং চুল পড়ার সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে আগে চুল পড়ার কারন সম্পর্কে জানুন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন এবং সুস্থ থাকুন।

Comments